রামু ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠাকরণ

রামু ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠাকরণ

'জ্ঞানই শক্তি'' এই স্লোগানকে সামনে রেখে  রামু ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে'র যাত্রা শুরু।  এই বিদ্যাপীঠের মূল মন্ত্র নির্ধারণ করা হয় জ্ঞান,শৃঙ্খলা, নৈতিকতা। গত ২৮ অক্টোবর ২০১৪ সালে পাহাড় ও সমুদ্র বেষ্টিত কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত রামু উপজেলায় ১৭৭৮ একর জায়গার উপর রামু সেনানিবাস তথা ১০ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে এ সেনানিবাসকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত সেনানিবাস গড়ে তোলার নির্দেশনা প্রদান করেন। এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ডিভিশনের প্রথম জিওসি মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, পিএইচডি ১৭ একর জায়গার উপর দৃষ্টিনন্দন স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ভিত্তিপ্রস্তব স্থাপনের পর পরই তাঁর বদলির আদেশ জারি করে।

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে পরবর্তী জিওসি মেজর জেনারেল মাকসুদুর রহমান,বিএসপি,পিএসসি,দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নেন। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের সাথে ব্যাক্তিগত যোগাযোগ স্থাপন ও ডিপিপি ফেরত এবং অনুমোদনের মাধ্যমে বিদ্যালয় নির্মাণ কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। ঠিকাদার কোম্পানি জাফর এন্টারপ্রাইজ বিল্ডিং তৈরি ও উডকিং এন্টারপ্রাইজ ফার্নিচার সরবরাহের দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়। ২০১৮ সালে জানুয়ারি হতে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য তৎকালীন বিদ্যালয়ের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মহোদয়, কমান্ডার ২ পদাতিক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ, মোহাম্মদ বাকির,পিএসসি পরিচালক পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রশাসনিক কাজে সহায়তার জন্য লে. কর্ণেল আবু ফাত্তাহ, মো ফখরুজ্জামান,পিএসসি, অধিনায়ক, ১৪ বীর সহ-সভাপতি (কো-অপ্ট সদস্য) নির্বাচিত হন। মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান, এইসি প্রিন্সিপাল হিসেবে ২৮ জানুয়ারি ২০১৮ সালে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। প্রাথমিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রজেক্ট ডাইরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন লে. কর্ণেল নাজমুল হক,পিএসসি, অধিনায়ক ৩৮ বীর। পরবর্তীতে এ দায়িত্ব অর্পিত হয় লে. কর্ণেল শামসুল আলম কাদের, পিএসসি, অধিনায়ক ৩৭ বীর এর উপর। এ প্রকল্পে শেষ ধাপ বাস্তবায়নে প্রাক্তন অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবু ফাত্তাহ্ মো. ফখরুজ্জামান, পিএসসি বর্তমান অধিনায়ক লে. কর্ণেল রুবায়েত হাসান, পিএসসি,১৪ বীর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিদ্যালয়ের গোড়াপত্তনের বিভিন্ন ধাপে আমরা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করছি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ গোলাম ফারুক এসজিপি,এসইউপি,এনএসডব্লিউসি,এএফডব্লিউসি,পিএসসি কে যিনি প্রাথমিকভাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়,পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও ই-ইন-সি অফিসের সাথে কার্যকরী সমন্বয় সাধন করেছেন।

১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে অর্ধ সমাপ্ত ভবনে ২৭৬ জন শিক্ষার্থী, ১৭ জন শিক্ষক- শিক্ষিকা ও ৫ জন ননটিচিং স্টাফ এর সমন্বয়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমি কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে এ বিদ্যালয়কে নানাবিধ চ্যালেন্জ মোকাবিলা করতে হয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক,উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠদানের জন্য অনুমোদন সংগ্রহ করার মত জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজটি এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে এই স্কুল ও কলেজে নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত কাজ,আধুনিকায়ন, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সুষ্ঠু ও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মেজর জেনারেল মাঈন উদ্দিন চৌধুরী, ওএসপি,এডব্লিউসি,পিএসসি,জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ১০ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, কক্সবাজার এরিয়া।ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম। এনডিইপি,পিএসপি,কমান্ডার, ২ পদাতিক ব্রিগেড পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে সম্পৃক্ত প্রধান নিদিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতাবোধ জাগিয়ে তোলার প্রতি বিশেষ গুরুত্বরোধ করেন। তিনি দেশপ্রেম ও সৃজনশীলতায় উদ্বুদ্ধ করতে সহ পাঠ্যক্রমিক জোরালোভাবে পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করেন।

জ্ঞান শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা ও মূলনীতিগুলো অর্জনের লক্ষ্যে আমরা শিক্ষার্থীদের পরিকল্পনা মোতাবেক বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। জ্ঞান, আধুনিক পৃথিবীকে জানতে সহায়তা করবে। শৃঙ্খলা শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত লক্ষ্যের পথে অবিচল রাখবে। আর নৈতিকতা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর চারিত্রিক দিককে উন্নয়ন করে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার পথ সুগম করবে। এ তিনটি মূল নীতির সমন্বয়ে যখন কোনো শিক্ষার্থীর জীবনে ঘটবে, তখন সে আর্দশ ও পরিপূর্ণ মানুষ হতে পারবে। আমাদের দৃষ্টি থাকে ফলাফল, নৈতিকতা এবং যুগোপযোগী সকল ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সক্ষম করে তোলা। বিগত বছর গুলোতে পিইসিই ও জেএসসি পরীক্ষায় আমাদের শিক্ষার্থী শতভাগ পাশ করেছে। এছাড়া উপজেলা, জেলা, ও বিভাগীয় পর্যায়েও আমাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সফলতা রয়েছে।

পড়া ও লেখার অভ্যাস গঠনে বই পড়া ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন, গুছিয়ে ও সুন্দর করে কথা বলার অভ্যাস গঠনে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বির্তক প্রতিযোগিতা,বিএনসিসি,স্কাউট, চিত্রাঙ্কন ক্লাব,ড্রামা ক্লাস, কুকিং ক্লাস, গণিত ক্লাব ও আবৃত্তি ক্লাব প্রভৃতি কার্যক্রম রয়েছে। এছাড়া বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।বিবিধ শারিরীক কার্যক্রম ও খেলাধুলা।

সর্বোপরি রামু ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ তার শিক্ষা বিস্তারে গোটা দেশে সুনাম ছড়িয়ে দিবে। এবং আমাদের শিক্ষার্থীবৃন্দ হয়ে উঠবে এক একটি আলোকবর্তিকা প্রত্যাশা করি।

Post a Comment

Previous Post Next Post

যোগাযোগ ফর্ম