ভালোবাসার গল্প

ভালোবাসার গল্প

ভালোবাসার গল্প 

শুরুটা হয় ফেসবুক থেকে, ফেসবুকে প্রথম দেখে ভালো লাগা। সে ফেসবুকে তার আইডি ২৫শে মার্চ দিন কালো শাড়ি, এবং লাল টিপ পড়া একটি ছবি আপলোড করে। আমি আমার ফেসবুকে আমার একটা বন্ধুর ছবি দেখতেছিলাম। এর পরে আসে তার ছবি, ছবি দেখে ভালো লাগে। এবং তার আইডিতে ঢুকে দেখি তার আরও কিছু ছবি।  দেখতে দেখতে তাকে নক দিয়, কিন্তু সে-ই দিন কোনো রেসপন্স পাই নাই!
প্রতি বারযখনই ফেসবুকে ঢুকি তার মেসেজ এর অপেক্ষায় থাকি। দেখতে দেখতে ৭ দিন হয়ে গেল,হঠাৎ দেখি  তার আইডি থেকে মেসেজ আসলো, আমি 'হাই' পাঠায় ছিলাম। সে মেসেজ করলো 'হ্যালো'। আমি এর বলি কেমন আছেন,  কিন্তু কোনো উত্তর পেলাম না!
কোনো উত্তর দিয় না, কিন্তু মেসেজ দেখে, এভাবে কোনো উত্তর ছাড়া দীর্ঘ ১২ দিন মেসেজ করতে থাকি, এর পরে একদিন বলতেছে ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন.?
আমি বলি আলহামদুলিল্লাহ আমিও অনেক ভালো, আমি জিজ্ঞেস করি আপনার বাসা কোথায়, সে উত্তর দিয়ে বলে কক্সবাজার। আমার বাড়ি থেকে ৮০ টাকা গাড়ি ভাড়া কক্সবাজার যেতে। কক্সবাজার বাড়ি শুনে আমি আরও খুশি হইয়। অনেক দিন কথা বলতে বলতে একদিন বলে পেলি আমি তোমাকে আমার জীবন সঙ্গী করতে চায়।

সে  শুনে অবাক কোনো কিছু বলে না, আমি মেসেজ দিলে উত্তর ও দেয় না। আমি অনেক চিন্তায় পড়ে গেলাম, এর পরের দিন মেসেজ দিয়ে বলে, তোমার সাথে তো আমার কোনো দেখা শুনা হয় নাই, তুমি আমার কী দেখে প্রেমে পড়ে গেলা.?
আমি বলি তোমার ফেসবুকে ছবি দেখে আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেলাম। সে বলে পাগল ছবি আর বাস্তবের মধ্যে অনেক তফাৎ। তুমি যেইটা বলতেছ সেইটা আসলে ভালোবাসা না, ঐটা হচ্ছে আবেগ,  আমি বলতেছি আবেগ বা ভালোবাসা যা-ই হউক, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি, সে বলতেছে তুমি আমার সাথে একদিন দেখা কর,আমরা আগে পরিচিত হয়, আমি বলতেছি আচ্ছা ঠিক আছে, আমরা একদিন দেখি করি। তখন করোনা মহামারীর কারণে স্কুল প্রতিষ্ঠান সব কিছু বন্ধ। সে কলেজেও আসতে পারতেছে না। দেখা করার আগে তার সাথে আরও ভালো সম্পর্ক করে পেলি। এবং একদিন কলেজে এ্যাসাইন্টমেন্ট জমা দিতে আসে, সেই দিন দেখা করি তার সাথে,  কলেজ শেষে পাশে একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে আমরা নাস্তা করি। প্রথম প্রথম আমি একটু নার্ভাস মনে করতেছিলাম, কারণ প্রথম দেখা করতে গেলাম তাই একটু নার্ভাস লাগতেছে। এর পরে অনেক্ক্ষণ কথা বলার পরে তাকে তার বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে আসি। যাওয়ার সময় আমার হাতে একটা কাগজ দিয়ে তাড়াতাড়ি হেঁটে চলে গেল। আমি রাস্তায় কাগজটা খুলি নাই বাসায় এসে কাগজ খুলে দেখি I Love You লিখা।
পড়ে আমি খুশি হয়ে গেলাম। এভাবে চলতে থাকে আমাদের রিলেশন। মাঝে মাঝে আমি কলেজ ফাঁকি দিয়ে তার সাথে দেখা করতে যেতাম। এভাবে করে দীর্ঘ ২ বছর আমাদের প্রেম ভালোবাসা চলতে থাকে,
সেইদিন সময় বিকাল ৪টা, আমি মাঠে ক্রিকেট খেলিতেছিলাম, আমার ফোন আমার হাতে ছিল না, এক পাশে আমার ফোন রেখে খেলিতেছিলাম।  হঠাৎ দেখি সে মেসেজ দিয়ে বলতেছে, জরুরি কথা আছে তুমি ফ্রী হলে আমাকে কল দিয়,
আমি খেলা শেষ করে ফোন হাতে নিয়ে দেখতেছি তার মেসেজ।  আমার ফোনে ব্যালেন্সও ছিল না৷ আমি বাসায় গিয়ে পরিষ্কার হয়ে, দোকানে গিয়ে ফোনে রিচার্জ করে তাকে কল দিয়,
প্রথম বার কল দিলাম রিসিভ করলো না, এর পরে আবার দিলাম রিসিভ করলো আবারও। অনেকক্ষণ পরে কল রিসিভ করলো, কোনো কথা বার্তা না কান্না শুরু করে দিল। আমি বলতেছি কী হয়ছে তোমার, কান্না করতেছ কেন.?
কোনো উত্তর ছাড়া কান্না করতে থাকে, অনেকক্ষণ কান্না করার পরে বলে আমি তোমাকে ছাড়া কীভাবে থাকবো, 😭
বাড়িতে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলছে। আমি বলতেছি তুমি কী আমার সাথে মজা করতেছ.? সে বলতেছে
আমি কীভাবে ভুলে যাব তোমাকে, কীভাবে ভুলে যাব তোমার সাথে কাটানো ২ বছরের স্মৃতি, ভালোবাসা, আমি নিজেও জানি না আমার জন্য পাত্র দেখছে যে সেইটা। আজকে আব্বু আমাকে ডেকে বলতেছে আগামী সপ্তাহে তোর বিয়ে। আমি বলতেছি আমার কোনো মতামতও নিলেন না কেন এই বিয়েতে। আব্বু বলতেছে এতে মতামত নেওয়ার কী আছে, আমি কী তোর খারাপ চাইব। আমার কথা একটায় সামনের সপ্তাহে তোর বিয়ে,  আমি আব্বুকে বলতেছি আমি এই বিয়ে করতে পারবো না, আব্বু বলতেছে কেন, কেন বিয়ে করতে পারবি না,.?
আমি বলতেছি আমি একজনকে ভালোবাসি, আমি থাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবো না, আব্বু কোনো মতে আমার কথায় রাজি হয়না, আমার হাত থেকে আমার মোবাইলটাও নিয়ে পেলে, আমাকে বাড়ি থেকে বের হতেও দিচ্ছে না, আমি অনেক কষ্ট করে ফোন নিয়ে তোমাকে কল দিছি, আমি এখন কী করবো বলো.?
আমি বলতেছি তুমি কী আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে, সে বলতেছে আমি কখনো তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না,
আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি,

Post a Comment

Previous Post Next Post

যোগাযোগ ফর্ম